অনুভূতি চেপ্টার-১

Trending

Trending

Category

অনুভূতি চেপ্টার-১

মাইশার মন খারাপ আজ,তার ভাই মুনেম তাকে আজ অনেক কথা শুনিয়েছে।মাইশা অনেক শান্ত স্বভাবের মেয়ে কারও ওপর কোনো কথা সে কখনো বলে না,যদি সে বিষয়টি অপছন্দ করে তারপরেও না।আসলে সে ছোটবেলা থেকেই এভাবেই মানুষ হয়েছে,আসলে আমাদের দেশের পরিবার কাঠামোগুলোই এরকম,মেয়েদের কোনঠাসা করে রাখা হয়।

মাইশা, কি করো?বলে মামুন ভাই ঘরে ঢুকলেন।
জ্বী,ভাইয়া তেমন কিছু না,বসে আছি।
আচ্ছা,তোমার সাথে কিছু বিষয় নিয়ে কথা বলবো।তুমি এখন যথেষ্ট বড় হয়েছ তোমার বিয়ে দেয়া উচিত তুমি তো এইবার সেকেন্ড ইয়ারে উঠলে।আমি আম্মা ও আব্বার কাছ থেকে সব শুনেছি।তুমি নাকি ফাহিম নামের কাউকে পছন্দ করো? যাইহোক তোমাকে খুব শীঘ্রই বিয়ে দিয়ে দিবো,কিন্তু তোমাকে জোড় কে বিয়ে দেয়াটা ঠিক হবে না তাই তুমি ফাহিমের সাথে কথা বলো ও যেনো এই মাসের মধ্যে তোমাকে বিয়ে করে। নাহলে আমি সুরোজ এর সাথে তোমার বিয়ে দিয়ে দিবো...

এইদিকে ফাহিম এবং মাইশা সমবয়সী।ফাহিম সদ্য অর্নাস সেকেন্ড ইয়ারে পড়া ছাত্র,তার পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব না বিয়ে সেরে ফেরা।এইদিকে মাইশা ফাহিমকে অনেকভাবে বুঝিয়ে বলেছে কোনোরকম ই লাভ হয় নি।
বাস্তবিকভাবেই তার পক্ষেও সম্ভব না এভাবে বিয়ে করে ফেলা।

সমবয়সী প্রেম গুলো এমনই হয়,এই প্রেমগুলো বিয়ে পর্যন্ত টিকিয়ে রাখাটা খুবই কঠিন অন্তত আমাদের সমাজ ব্যবস্থায়।এই সময় মেয়েদের পরিবার থেকে বিয়ের চাপ দেয় আর ছেলের ক্যারিয়ার শুরু হতে আরও ৪-৫ বছর।আর বেকার ছেলের হাতেও কেউ কখনো বউ তুলে দিবে না।সব মিলিয়ে সম্পর্ক গুলো অনেক বেশি কম্পলিকেট হয়ে যায়।

এইসব জটিলতা গুলো মাইশার মনকে অস্থির করে তুলছে,মুনেম ভাই রুম থেকে চলে যাওয়ার অনেকক্ষন হয়েছে।ভাইয়ের চলে যাবার পর থেকে সে প্রায় ২ ঘন্টা যাবৎ ঘরের লাইট অফ করে শুয়ে রয়েছে।এইদিকে ফাহিম কেও সে ফোন দিয়েছিলো সেও এর সমাধান দিতে পারে নি বরং মাইশাকে বকাবকি করে ফোন কেটে দিয়েছে,ইদানিং ফাহিম ও মাইশাকে ভালোই বকাবকি করে।হঠাৎ করে তার চোখ দিয়ে পানি ঝরছে,শত চেষ্টা করেও এই ধারা কে আটকাতে পারছে না সে।এই বয়সে সে কোনো ভাবেই বিয়ে করতে প্রস্তুত না সে,এসব ভাবতে ভাবতে তার নিশ্বাস ঘন হয়ে আছসে,সে বুঝতে পারছে তার কান্নাও এখন তার নিয়ন্ত্রণে নেই।চোখের জল অবিরাম গড়িয়ে বিছানায় পড়ছে।বিছানার চাদরের অনেকটা অংশ প্রায় ভিজে গেছে,মেয়েদের জীবনটাই মনে হয় এমন...

SHARE:

COMMENTS